বিদ্যুৎ বিপর্যয়েও মেট্রোরেল সচল, বিকল্পে চলবে তিন ঘণ্টা
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের সময় উত্তরা সাবস্টেশনের বিদ্যুতে মেট্রোরেল চলেছে। পুরো সরবরাহ বন্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থায় তিন ঘণ্টা চলার কথা জানিয়েছে ডিএমটিসিএল।

জাতীয় গ্রিডের আংশিক বিপর্যয়ে মঙ্গলবার ঢাকার একাংশসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। মেট্রোরেলের একটি সাবস্টেশনেও সরবরাহ বন্ধ হয়। তবে মেট্রোরেল চলাচল ব্যাহত হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থার পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তখন উত্তরা সাবস্টেশন থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।
দুই সাবস্টেশনে পৃথক সংযোগ
উত্তরা থেকে মতিঝিল রুটের মেট্রোরেলের জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে দুটি সাবস্টেশন রয়েছে। মতিঝিলে বিদ্যুৎ আসে মানিকনগর থেকে, আর উত্তরায় সরবরাহ আসে টঙ্গী থেকে। মঙ্গলবারের বিপর্যয়ে মতিঝিলের সাবস্টেশন বন্ধ হয়ে গেলেও উত্তরা অংশ সচল ছিল। ফলে দুটি সংযোগের একটি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মতিঝিল সাবস্টেশন বন্ধ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরা সাবস্টেশনের আওতায় চলে যায়। সেই বিদ্যুতে ট্রেন চলতে থাকে। তাই জাতীয় গ্রিডের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকা এবং মেট্রোরেলের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া একই পরিস্থিতি নয়। মঙ্গলবার মূলত একটি সাবস্টেশন থেকে অন্যটিতে সরবরাহ বদল করা হয়েছে।
নিজস্ব উৎপাদনে অন্তত দুই ঘণ্টা
জাতীয় গ্রিড থেকে সব সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও মেট্রোরেল চালানোর জন্য আলাদা জরুরি ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল। প্রথমটি ৩৩ কেভির জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। এটি সংস্থার নিজস্ব উৎপাদনের ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলে এর সাহায্যে অন্তত দুই ঘণ্টা ট্রেন চালানো সম্ভব।
ব্যাটারিতে আরও এক ঘণ্টা
নিজস্ব উৎপাদনের জরুরি বিদ্যুৎ ফুরালে ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম বা ইএসএস ব্যবহার করা যাবে। এই ব্যবস্থায় ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষিত থাকে। জরুরি সময়ে সেই শক্তি কাজে লাগিয়ে আরও এক ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানোর সক্ষমতার কথা জানিয়েছে সংস্থা। অর্থাৎ নিজস্ব উৎপাদন ও ব্যাটারি দুটি আলাদা বিকল্প ধাপ।
সক্ষমতা সীমিত, অনির্দিষ্ট নয়
ডিএমটিসিএলের পরিচালক বলেছেন, দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় মোট তিন ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো যাবে। তবে ওই সময়ের মধ্যেও জাতীয় গ্রিডের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং দুই বিকল্পের শক্তি ফুরিয়ে গেলে চলাচল বন্ধ হবে। তাই বিদ্যুৎ বিপর্যয়েও চলবে বলার অর্থ অনির্দিষ্ট সময় চালু থাকা নয়; কর্তৃপক্ষের বর্ণিত সময়সীমা ও শর্ত এই সক্ষমতার অংশ।
এই বিভাগের আরও খবর: জাতীয়।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?
আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।







০ টি মতামত