অর্থনীতি

দুই শতকের থানার হাট: পটিয়ার গ্রামীণ বাণিজ্যের গল্প

রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট থেকে আজকের থানার হাট—দুই শতকের পথচলায় পটিয়ার এই বাজার কৃষক, কারিগর ও ব্যবসায়ীদের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

২ মিনিটে পড়ুন
BartaPrerok৬ দিন আগে · ২৭ অক্টোবর ২০২৬আপডেট: ৫ দিন আগে
পটিয়ার থানার হাটে বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের পসরা
পটিয়ার থানার হাট ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের পটিয়ার থানার হাটের ইতিহাস প্রায় দুই শতকের। একসময় রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট নামে পরিচিত এই বাণিজ্যকেন্দ্র বটতলা থেকে স্থান বদলে আজ বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। কৃষকের ফসল, গ্রামের কারিগরের পণ্য এবং বহু পরিবারের জীবিকার সঙ্গে এর সম্পর্ক এখনো ঘনিষ্ঠ। পুরোনো বটগাছটি পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থাকলেও সেখানে আর হাট বসে না।

আরাকান সড়ক থেকে থানার পরিচয়

হাটটি গড়ে উঠেছিল পুরোনো আরাকান সড়কের ধারে। স্থানীয় প্রবীণদের বর্ণনায়, থানা প্রতিষ্ঠার আগেই রামসুন্দর মিস্ত্রি নামের জমিদার সেখানে হাট বসান। প্রশাসনিক ইতিহাসে পটিয়ায় থানা স্থাপনের সাল ১৮৪৫ উল্লেখ রয়েছে। পরে থানাকে ঘিরে পরিচয় বিস্তৃত হওয়ায় মানুষের মুখে বাজারটির নাম হয় থানার হাট।

কেনাবেচার সঙ্গে গানের আসর

সাবেক শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের স্মৃতিতে ১৯৭৫-৭৬ সালেও সোমবার ও শুক্রবার বটতলায় হাট বসত। আশপাশের উপজেলা থেকে মানুষ ফসল ও অন্য পণ্য নিয়ে আসতেন। কাছের রেলস্টেশন এবং চাঁনখালী খালের কারণে ট্রেন, নৌকা, গরুর গাড়ি ও জিপে যাতায়াতের সুবিধা ছিল। প্রবীণদের ভাষ্যে, বিকেলে গান ও লোকজ বিনোদনের আসর জমত; সন্ধ্যায় কুপি জ্বালিয়ে বেচাকেনা চলত।

বদলেছে ঠিকানা ও পণ্যের তালিকা

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের দিকে হাট বর্তমান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে নেওয়া হয়। ১৯৮৫ সালের পর আদালত নির্মাণের প্রয়োজনে আবার স্থান বদলায়। রেলস্টেশনের পেছনে প্রায় চার একর জায়গায় গড়ে ওঠে নতুন থানার হাট। একটি অংশ যায় সরকারি কলেজের দক্ষিণে। নতুন বাজারে হাটবারে দুই থেকে আড়াই লাখ ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন বলে পৌরসভা ও ব্যবসায়ী সমিতির হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষক ও কারিগরের জীবিকা

হাজারের বেশি বিক্রেতা এই হাটে পসরা নিয়ে বসেন। ক্রেতাদের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী বলে সংশ্লিষ্টদের তথ্য। পটিয়ার গ্রামের সবজি ছাড়াও আখ, মাটির তৈজসপত্র, চারা ও বীজ পাওয়া যায়। গোবিন্দারখিলের কৃষক আবু তোরব নিজের জমির ফসল বিক্রি করেন এখানে। কেলিশহরের কারিগর পাখিজা বেগমের তৈরি হাঁড়ি-পাতিলও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে এই হাটে আসে।

পরিচ্ছন্নতা ও জায়গা উদ্ধারের দাবি

ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বাজারের দখল হওয়া অংশ উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছেন। চলাচলের পরিসর বাড়ানো এবং ময়লা ফেলা ও নিয়মিত অপসারণের ব্যবস্থাও দরকার বলে তাঁর মত। পুরোনো পরিবহন ও বিনোদনের ধরন বদলালেও গ্রামের উৎপাদক আর শহরের ক্রেতার সংযোগ হিসেবে থানার হাটের ভূমিকা রয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে বাজার আরও গোছানোর সুযোগ রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর: অর্থনীতি।

আরও পড়ুন: লুলার জয়ের পর রিয়ালের দরপতন, ব্রাজিলের শেয়ারবাজারে ধাক্কা

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?

আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।

আলোচনা

০ টি মতামত

এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ