স্বাস্থ্য

চোখের অঞ্জনি কেন হয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

চোখের পাতায় অঞ্জনি বা স্টাই কেন হয়, কেলাজিয়ানের সঙ্গে এর পার্থক্য কী, ঘরোয়া যত্ন থেকে চিকিৎসক পরামর্শ পর্যন্ত কী করণীয়—জেনে নিন বিস্তারিত।

২ মিনিটে পড়ুন
BartaPrerok৫ দিন আগে · ২৮ অক্টোবর ২০২৬
চোখের পাতার মেয়োবিয়ন গ্রন্থির প্রদাহ বা অঞ্জনির চিত্র
মেয়োবিয়ন গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে গ্রন্থিতে সেবাম জমা হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে ও ফুলে যায় ছবি: ম্যাগনিফিক

চোখের পাতায় দুই ধরনের গ্রন্থি আছে—ঘর্মগ্রন্থি এবং তৈলাক্ত সেবাম নিঃসরণকারী মেয়োবিয়ন গ্রন্থি। পাপড়ির গোড়ায় একাধিক ঘর্মগ্রন্থি থাকে, যেগুলো পাপড়ির গোড়ার থলি বা লেশ ফলিকুলে উন্মুক্ত; মেয়োবিয়ন গ্রন্থিগুলো আকারে বড় এবং পাতার কোণ থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে অবস্থিত। কোনো কারণে এসব গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ঘাম ও সেবাম ভেতরে আটকে যায়। তখন গ্রন্থিতে সংক্রমণ ও প্রদাহ হয়; পাপড়ির থলিতে পুঁজ জমে ফুলে যায়, লালচে বর্ণ ধারণ করে এবং ব্যথা হয়। এটিই স্টাই বা অঞ্জনি।

অঞ্জনি ও কেলাজিয়ানের পার্থক্য

মেয়োবিয়ন গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম জমে প্রদাহ সৃষ্টি করে ও ফুলে যায়—একে বলে কেলাজিয়ান। এতে কোনো ব্যথা থাকে না। অঞ্জনি এক থেকে দুই সপ্তাহে সেরে গেলেও কেলাজিয়ান অনেক সময় কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় থাকতে পারে। সংক্রমণ বা প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ—চোখের পাতায় খুশকি, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বা রসাসিয়া একনির মতো ত্বকের সমস্যা। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হরমোনের প্রভাব, শুষ্ক ত্বক, রাত জাগা বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাজ করার মতো চোখের স্ট্রেস, বারবার চোখ রগড়ানো বা চুলকানো, সাধারণ দৃষ্টি সমস্যা বা রিফ্রেক্টিভ এরর এবং ভুল প্রসাধনীর ব্যবহারেও এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিকিৎসা

প্রাথমিক যত্ন হিসেবে গরম সেক: হালকা গরম পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে চিপে চোখের পাতা বন্ধ রেখে পাতার ওপর কয়েক মিনিট ধরে রাখতে হবে। এতে পাপড়ির গোড়ার ক্রাস্ট নরম হয়, ঘন তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে গ্রন্থির মুখ খুলে যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা হয়। কেলাজিয়ান অনেক সময় নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়; কখনো ছোট একটি অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

চোখের পাতার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন; প্রয়োজনে বেবি শ্যাম্পু দিয়ে চোখের পাতার খুশকি নিয়ন্ত্রণ করুন। দৃষ্টি সমস্যা থাকলে চশমা ব্যবহার করুন। রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন, মাথার খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখুন; চোখের পাতা নখ দিয়ে খোঁটা বা চোখ রগড়ানোর অভ্যাসও পরিত্যাগ করতে হবে।

এই প্রতিবেদনের তথ্য চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, মার্কস মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. ছায়েদুল হকের দেওয়া পরামর্শের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। চোখের পাতায় ফোলা, ব্যথা বা দৃষ্টিতে সমস্যা হলে নিজে ওষুধ না কিনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

এই বিভাগের আরও খবর: স্বাস্থ্য।

আরও পড়ুন: ৩০৯ শিশুর গবেষণায় ২৭.৫ শতাংশের হামের অ্যান্টিবডি মেলেনি

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?

আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।

আলোচনা

০ টি মতামত

এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ