আইন ও অপরাধ

সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস

সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনার অগ্রগতি জানাতে হবে ২৯ এপ্রিল।

২ মিনিটে পড়ুন
BartaPrerok৬ দিন আগে · ২৭ অক্টোবর ২০২৬আপডেট: ৫ দিন আগে
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি
মেহেরুন রুনি ও সাগর সরওয়ার ফাইল ছবি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর এ আদেশ আসে। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ পরবর্তী আদেশের জন্য ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল দিন রেখেছেন।

প্রাথমিক তথ্য এখনো যাচাইয়ের পর্যায়ে

অগ্রগতি প্রতিবেদনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর নাম এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের বরাতে তাঁদের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার তথ্য যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এটি তদন্তাধীন অভিযোগ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের বিবরণ, আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট আলামত যাচাই শেষে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা।

মামলার পটভূমি

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় সাগর ও রুনি খুন হন। সাগর তখন মাছরাঙা টেলিভিশনে এবং রুনি এটিএন বাংলায় কাজ করতেন। রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।

সাক্ষ্য ও ডিজিটাল আলামত

অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে টাস্কফোর্স ৯০ জন সাক্ষীকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। জিয়াউল আহসানের বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিজিটাল উপকরণে জিওলোকেশন, এসএমএস ও কল রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা প্রতিবেদনে এসেছে। পিবিআই তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের কাছে আলামত চেয়ে যোগাযোগ ও চিঠি দিয়েছে।

সময় চাওয়ার কারণ

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩০০টি সিডির সব উপাদান এখনো পর্যালোচনা করা যায়নি। বাদীপক্ষের আইনজীবীর হিসাবে ৯০টির মূল্যায়ন হয়েছে, বাকি ২১০টির কাজ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এক বছর সময় চাইলেও বাদীপক্ষ জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মামলাটিতে দ্রুত অগ্রগতির তাগিদ দেয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন।

পরবর্তী তারিখে টাস্কফোর্স এবং ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রসিকিউশন কর্মকর্তাদের আদালতে অগ্রগতি জানাতে হবে। শিশির মনির বলেছেন, প্রতিবেদনে কারও নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট নয়, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। সিডি পর্যালোচনায় কী পাওয়া যায় এবং তা তদন্তের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়, সেই তথ্যই আদালতের সামনে উপস্থাপনের প্রত্যাশা রয়েছে। টাস্কফোর্স এ নিয়ে চতুর্থবার সময় পেল।

এই বিভাগের আরও খবর: আইন ও অপরাধ।

আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য নাকচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?

আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।

আলোচনা

১ টি মতামত

মান্নার গাড়িতে আগুন: গ্রেপ্তার দুজন কারাগারে – বার্তাপ্রেরক

[…] আরও পড়ুন: সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে টাস্কফোর্সকে… […]

মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ