ইসরায়েলে ভোটার উপস্থিতি বেশি, আরব ভোটে নজর
ইসরায়েলের নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত বেশি ভোটার উপস্থিতির খবর এসেছে। কোনো জোটের জয় নিশ্চিত নয়; সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে আরব ভোটারদের ভূমিকা আলোচনায়।

ইসরায়েলের মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯৭৭ সালের পর এমন উপস্থিতির নজির নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এসেছে। আরব ভোটারদের অংশগ্রহণও বিশেষ নজর কেড়েছে। তবে ভোট চলার সময়ের এই তথ্যকে চূড়ান্ত ফল বা কোনো জোটের জয় হিসেবে দেখা যাবে না।
দুপুর পর্যন্ত ভোটের হিসাব
স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং রাত ১০টা পর্যন্ত চলার কথা। হারেৎসের প্রতিবেদনে বেলা একটা পর্যন্ত ৪৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের তারিখ ৪ নভেম্বর জানানো হয়। এই নির্বাচনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতা, গাজা ও লেবাননে হামলা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
মুখোমুখি রাজনৈতিক শিবির
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটে ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের দল রয়েছে। ধর্মীয় দলগুলোও সম্ভাব্য মিত্র। বিপরীতে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসকে নিয়ে বিরোধী শিবির। সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬১ আসন প্রয়োজন। ভোটের আগে প্রকাশিত এক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের ৫০ এবং বিরোধী জোটের ৫২ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল। এগুলো জরিপের সংখ্যা, নির্বাচনের ফল নয়। কোনো পক্ষই ওই হিসাবে একা সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছায় না।
নেতানিয়াহু শত্রুদের মোকাবিলায় নিজের দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেছেন। বিরোধীরা গুরুত্ব দিচ্ছে ৭ অক্টোবরের ঘটনার জবাবদিহিতে। বিভিন্ন মেয়াদে ১৯ বছর সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া নেতানিয়াহুর নীতির প্রভাবও নির্বাচনে আলোচ্য হয়ে উঠেছে।

ভোটারদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং বর্তমান সরকারকে সমর্থনের ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে। ফলে উপস্থিতি বেশি হলেও তা কোন পক্ষকে কতটা সুবিধা দেবে, ভোট গণনা ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

আরব দলগুলোর ভূমিকা
ফিলিস্তিনি প্রার্থী আহমেদ তিবি আরব সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণকে নজিরবিহীন বলেছেন। আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করলেও কিছু বিশ্লেষক সংখ্যালঘু সরকারে তাদের সমর্থনের সম্ভাবনা দেখছেন। ভোটের পর সরকার গঠনের আলোচনায় এ ধরনের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমোৎস আসা-এলের ধারণা, দুই পক্ষের ব্যবধান খুব বড় হবে না। কোনো জোট সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সমর্থন না পেলে নতুন নির্বাচন পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্বে থাকতে পারেন। এই সম্ভাবনাগুলো বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন; আনুষ্ঠানিক আসনবণ্টন ও পরবর্তী সমঝোতার ওপর প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
এই বিভাগের আরও খবর: আন্তর্জাতিক।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?
আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।







০ টি মতামত