আন্তর্জাতিক

তেহরানে সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের প্রতিনিধিদের বৈঠক

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা। শান্তি, নিরাপত্তা ও সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আলোচনা হয়েছে।

২ মিনিটে পড়ুন
BartaPrerok৬ দিন আগে · ২৭ অক্টোবর ২০২৬আপডেট: ৫ দিন আগে
তেহরানে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি, পাকিস্তানি ও তুর্কি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ
বৈঠকের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে করমর্দন করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির (ডানে)। সোমবার তেহরানে ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে সোমবার তেহরানে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য এই তিন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং সৌদি আরব–হুতি সংঘাতের মধ্যেই এই কূটনৈতিক যোগাযোগ হলো।

আলোচনায় উত্তেজনা কমানোর পথ

গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা জোটে সই করে। সৌদি–হুতি সংঘাত বাড়ার পর ইরানের সঙ্গে এই তিন দেশের এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান খোঁজার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধিরা তেহরানে গেছেন।

কারা অংশ নেন

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি বৈঠক আয়োজন করেন। সৌদি আরবের পক্ষে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করেন গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তাদের আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়।

তেহরানের বিজ্ঞপ্তিতে যা এসেছে

ইরানি বার্তা সংস্থা ফারসের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের পর তেহরান একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে মূল আলোচ্য হিসেবে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে চার দেশের প্রতিনিধিরা সম্মত হয়েছেন। নতুন সামরিক অভিযান বা চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা ওই বিবরণে নেই।

আগের মধ্যস্থতার ধারাবাহিকতা

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে পাকিস্তান ও কাতার রয়েছে। রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীও তেহরানে গিয়েছিলেন। এর আগে জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হলেও পরে তা ভেঙে আবার সংঘাত শুরু হয়। ফলে বর্তমান বৈঠককে সেই জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সৌদি–হুতি সংঘাতের পটভূমি

সোমবার হুতিরা সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিমমুখী অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশন এবং রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দাবি করে। এর আগের দিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগের হামলার পর দুটি টার্মিনাল আবার চালুর কথা জানিয়েছিল। হামলার দাবি এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমের তথ্য ভিন্ন পক্ষের বক্তব্য। তেহরানের বৈঠকে আলোচনা চালানোর সম্মতি এলেও এই বিবরণ থেকে সংঘাত শেষ হয়ে গেছে বলা যাচ্ছে না।

এই বিভাগের আরও খবর: আন্তর্জাতিক।

আরও পড়ুন: সৌদিয়ার রিয়াদ–ঢাকা ফ্লাইট বুধবার চালুর সম্ভাবনা

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?

আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।

আলোচনা

০ টি মতামত

এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ