কোটি টাকার ফেলোশিপে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ম্যাক্সওয়েল ফেলোশিপ নিয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান। পাঁচ বছরে তাঁর পেছনে ব্যয় হবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্সওয়েল স্কুল অব সিটিজেনশিপ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স থেকে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাক্সওয়েল ফেলোশিপ নিয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান। ফেলোশিপের আওতায় টিউশন স্কলারশিপ, ফেলোশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ উপবৃত্তি এবং স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকিসহ প্রতিবছর তাঁর জন্য প্রায় ৮০ হাজার ৪৬০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৮ লাখ টাকা) খরচ করবে বিশ্ববিদ্যালয়। পিএইচডি প্রোগ্রামটি পাঁচ বছরের; অর্থাৎ এই সময়ে তাঁর পেছনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও সামাজিক নীতিনির্ধারণ গবেষণায় ম্যাক্সওয়েল স্কুল বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
গবেষণাজীবনের শুরু
এস এম আশফাকুর রহমানের গবেষণাজীবন শুরু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে; সেখান থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। মাস্টার্স থিসিসের বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট ও আধুনিক শাসনব্যবস্থা। এরপর দ্বিতীয় মাস্টার্সের জন্য ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ফুল ফান্ডিং স্কলারশিপসহ মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকাটোর সমাজতত্ত্ব ও লিডারশিপ বিভাগে ভর্তি হন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে করা তাঁর দ্বিতীয় মাস্টার্স থিসিস পেপার স্টেট সোসাইটি অন এজিং অব নিউইয়র্কের (এসএসএএনওয়াই) সেরা গবেষণা পেপার হিসেবে প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট সোশিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত বেস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট রিসার্চ পেপার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন; সোশিওলজিস্ট অব মিনেসোটার ক্যারোলিন রোজ রিসার্চ পেপার প্রতিযোগিতায়ও শীর্ষস্থান লাভ করেন। নজরদারি বা সার্ভেইল্যান্সের মতো সামাজিক কাঠামো তীব্র শীতে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রায় কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন আশফাক।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইন স্কলারশিপ অ্যান্ড রিসার্চে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রিসার্চ কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন আশফাকুর রহমান; পাশাপাশি জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা সহকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার নতুন ধাপ শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত সমাজবিজ্ঞান নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে চান। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যসেবা, নীতিনির্ধারণ ও কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অবদান রাখার প্রত্যাশা তাঁর।
এই বিভাগের আরও খবর: শিক্ষা।
আরও পড়ুন: ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?
আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।







০ টি মতামত