রাজনীতি

সিপিবি কার্যালয়ে হামলা: ভিন্নমতের অধিকারে আঘাত, রতন

সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলাকে গণতন্ত্র ও ভিন্নমত চর্চার অধিকারের ওপর আঘাত বলেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে প্রেসক্লাবের সামনে ও শাহবাগে।

৩ মিনিটে পড়ুন
BartaPrerok৫ দিন আগে · ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সিপিবি কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে স্লোগান ও নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের কারণে কোনো দলের কার্যালয়ে হামলা কিংবা নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অধিকার কারও নেই। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনে হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

হামলার অভিযোগ

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সোমবার রাত ১০টায় লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ব্যক্তি নিজেদের সরকারদলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তি ভবনের সামনে জড়ো হন। তাঁরা দাবি করেন, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছেন। প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে সিপিবির নেতা-কর্মীরা বাধা দেন; তখন হামলায় কয়েকজন আহত হন। পুলিশ এসে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরও হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখেন। বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবির বহু নেতা-কর্মী জীবন দিয়েছেন; ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও মুক্তি ভবন আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সেখানে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি

সমাবেশ থেকে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচার এবং রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক সংগঠনের কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান নেতারা। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে ও বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা জয়দেব ভট্টাচার্যের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, মুশতাক হোসেন, ইকবাল কবির জাহিদ, মোশরেফা মিশু, আব্দুল আলী, সৈয়দ হারুন অর রশীদ ও মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ
সিপিবি কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র ও যুব ইউনিয়ন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ছবি: প্রথম আলো

শাহবাগে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ

সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করা ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম; সঞ্চালনায় ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ।

সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বা ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে মানুষকে মবের শিকার করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলা বা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দেওয়ার কারণে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো এমন একটি কার্ড চালু করুন, যা দেখিয়ে মানুষকে প্রমাণ করতে হবে না যে তিনি আওয়ামী লীগ করেন না। ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মাহির শাহরিয়ার বলেন, নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ থাকার সময় পুলিশ ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালায়; মব সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত না করে যাঁরা মবের শিকার হয়েছেন, পুলিশ তাঁদের ওপরই চড়াও হয়েছে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল জাদুঘরের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে আটক হন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল। তাঁর মুক্তির পর রাতে পুরানা পল্টনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সিপিবির নেতা-কর্মীরা; ওই মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে হামলা করা হয় এবং দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরও খবর: রাজনীতি।

আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য নাকচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?

আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।

আলোচনা

০ টি মতামত

এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ