ডিজিটাল তথ্য আইনে সাংবাদিকতার সুরক্ষা চেয়ে ভারতের আদালতে
ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকতার জন্য স্পষ্ট ছাড় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেছে ভারতের ডিএনপিএ। কেন্দ্রকে নোটিস, পরের শুনানি ১৭ নভেম্বর।

ভারতের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিএনপিএ)। মঙ্গলবার ২১টি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনটি আবেদন করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৭ নভেম্বর।
সাংবাদিকতায় স্পষ্ট ছাড়ের দাবি
ডিএনপিএর সদস্যদের মধ্যে দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, জি ও নেটওয়ার্ক১৮ রয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, সাংবাদিকতার জন্য স্পষ্ট সুরক্ষা না থাকলে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সম্মতিসংক্রান্ত বিধান অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে বাধা দিতে পারে। তাদের ভাষ্যে, নিউজরুমের কাজের ভিত্তিই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আগাম অনুমতির প্রশ্ন
আইনজীবী মাধবী দিওয়ান আদালতে যুক্তি দেন, যাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে, তাঁর কাছেই আগে তথ্য ব্যবহারের অনুমতি চাইতে হলে প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আগেই সতর্ক হয়ে যেতে পারেন। খবর প্রকাশে অনুমতির অপেক্ষা এবং পরে তথ্য সরানোর দাবি—দুটিই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আবেদনকারীদের উদ্বেগ।
গোপনীয়তা ও সংবাদস্বাধীনতার ভারসাম্য
প্রধান বিচারপতি নাগরিকের অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের কাজের মধ্যে ভারসাম্য আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। আবেদনকারীরা এ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ডিএনপিএর অবস্থান হলো, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা এবং জনস্বার্থের সাংবাদিকতা একসঙ্গে নিশ্চিত করার স্পষ্ট বিধান থাকা দরকার।
সূত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সংগঠনটি বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকার সংবাদমাধ্যমের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সাংবাদিকের সঙ্গে তথ্যদাতার যোগাযোগ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সরকারি সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা নির্বাচনী অনিয়মসংক্রান্ত তথ্য দিতে তখন মানুষ নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এগুলো আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আবেদনকারীদের বক্তব্য; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
তথ্য জানার অধিকার আইনের সংশোধন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ডিএনপিএ। তাদের মতে, ব্যক্তিগত তথ্যের নতুন সীমাবদ্ধতা জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পথ সংকুচিত করতে পারে। আগস্টে কেন্দ্রকে উদ্বেগ জানানো হলেও লিখিত সুরক্ষা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরে সাংবাদিকতার সুরক্ষার উদাহরণও সরকারকে জানিয়েছে সংগঠনটি।
কার্যকরের আগেই মামলা
ডিজিটাল পারসোনাল ডেটা প্রোটেকশন আইন তৈরি হয় ২০২৩ সালে। বাস্তবায়নের বিধি প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান ২০২৭ সালের মে থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তার আগেই আইনে সাংবাদিকতার ব্যতিক্রম ও সুরক্ষা চেয়ে মামলা হয়েছে। নোটিস দেওয়ার অর্থ আইন বাতিল বা আবেদনকারীদের সব যুক্তি আদালত মেনে নিয়েছেন—এমন নয়।
এই বিভাগের আরও খবর: আন্তর্জাতিক।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগল?
আপনার প্রতিক্রিয়া শুধু এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
মতামত দিতে সাইন-ইন করুন।







০ টি মতামত